সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য শ্রান্তি বিনোদন ছুটি নেওয়ার নিয়ম Rest and Recreation Leave



 সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য শ্রান্তি বিনোদন ছুটি নেওয়ার নিয়ম Rest and Recreation Leave

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য শ্রান্তি বিনোদন ছুটি (Rest and Recreation Leave) একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। এই ছুটির নিয়ম এবং আবেদনের সময়সীমা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. শ্রান্তি বিনোদন ছুটির নিয়ম

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মচারী প্রতি ৩ বছর অন্তর ১৫ দিনের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ভোগ করতে পারেন।

  • ভাতা: এই ছুটির সাথে কর্মচারী তার এক মাসের মূল বেতনের (Basic Pay) সমপরিমাণ অর্থ ভাতা হিসেবে পেয়ে থাকেন।

  • ছুটির ধরণ: এটি সাধারণত ১৫ দিনের অর্জিত ছুটি থেকে কর্তন করা হয়। যদি কারো পাওনা ছুটি না থাকে, তবে তিনি অগ্রিম ছুটি হিসেবেও এটি পেতে পারেন।

  • শর্ত: ৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এই ছুটি বা ভাতা দাবি করা যায় না।

২. কত দিন আগে আবেদন করতে হয়?

শ্রান্তি বিনোদন ছুটি শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ আইনত নির্ধারণ করা না থাকলেও, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সাধারণত ছুটি শুরু হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ৩০ দিন আগে আবেদন করা উচিত।

তবে আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

  • দাপ্তরিক অনুমোদন: আপনার ছুটির কারণে অফিসের কাজে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, তাই আগেভাগে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে সুবিধা হয়।

  • ভাতা উত্তোলন: যেহেতু এই ছুটির সাথে আর্থিক ভাতার বিষয় জড়িত, তাই হিসাবরক্ষণ অফিস (Accounts Office) থেকে বিল পাসের জন্য কিছুটা সময় হাতে রেখে (যেমন: ১৫-২০ দিন আগে) আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ।

আবেদনের প্রক্রিয়া:

১. নির্দিষ্ট ফরমে বা সাদা কাগজে আপনার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার নিকট আবেদন পেশ করতে হবে। ২. আবেদনে আপনার সর্বশেষ শ্রান্তি বিনোদন ছুটি গ্রহণের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। ৩. ৩ বছর পূর্ণ হয়েছে কি না তার স্বপক্ষে প্রমাণ (পূর্ববর্তী ছুটির আদেশ) সংযুক্ত করা ভালো।


টিপস: আপনার দপ্তরের নিজস্ব কোনো অভ্যন্তরীণ সময়সীমা বা রীতি আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট শাখা বা এইচআর (HR) থেকে একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো। সাধারণত ১৫ দিন আগে জানানোই আদর্শ মানদণ্ড।

সরকারি চাকরিজীবীদের প্রসূতি (মাতৃত্বকালীন) ছুটির বিধান

 




সরকারি চাকরিজীবীদের প্রসূতি (মাতৃত্বকালীন) ছুটির বিধান

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রসূতি (মাতৃত্বকালীন) ছুটির বিধানগুলো মূলত বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR-১৯৭) এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ দ্বারা পরিচালিত হয়। বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এর প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ছুটির মেয়াদ

  • একজন নারী সরকারি কর্মচারী মোট ৬ মাস (১৮০ দিন) প্রসূতি ছুটি পাবেন।

  • আবেদনকারী গর্ভবতী হওয়ার পর যে তারিখ থেকে ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করবেন, সেই তারিখ থেকেই ৬ মাসের ছুটি মঞ্জুর করতে হবে।

২. বেতন ও সুবিধা

  • ছুটিকালীন সময়ে ওই নারী কর্মচারী তার সর্বশেষ আহরিত বেতনের হারে পূর্ণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন।

  • সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই ছুটি কর্মচারীর অর্জিত 'ছুটি হিসাব' (Leave Account) থেকে বিয়োগ হবে না। অর্থাৎ এটি তার সাধারণ পাওনা ছুটির বাইরে একটি বিশেষ সুবিধা।

৩. প্রাপ্যতার শর্তাবলি

  • সর্বোচ্চ দুইবার: একজন নারী কর্মচারী তার সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বার এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

  • চাকরির মেয়াদ: অস্থায়ী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে আগে ৯ মাসের একটি শর্ত থাকলেও, ২০১২ সালের সংশোধনী অনুযায়ী এখন চাকরির মেয়াদ নির্বিশেষে সকল নারী কর্মচারী এই ছুটি পাওয়ার যোগ্য।

  • আবেদন প্রক্রিয়া: গর্ভাবস্থার সপক্ষে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সার্টিফিকেটসহ আবেদন করতে হয়।

৪. গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম

  • কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা: যথাযথ সার্টিফিকেটসহ আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ এই ছুটি না মঞ্জুর করার বা মেয়াদ কমানোর কোনো অধিকার রাখেন না। এমনকি কর্তৃপক্ষ নিজ ইচ্ছায় ছুটি শুরুর তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন না।

  • সর্বশেষ সময়সীমা: ছুটি শুরুর সর্বশেষ তারিখ হবে সন্তান প্রসবের তারিখ। অর্থাৎ সন্তান প্রসবের পর নতুন করে এই ছুটি শুরু করার সুযোগ নেই; এটি প্রসবের আগে বা প্রসবের দিন থেকেই শুরু হতে হবে।

  • অন্য ছুটির সাথে সংযুক্তি: ডাক্তারের পরামর্শ থাকলে এই ছুটির ধারাবাহিকতায় অর্জিত ছুটি বা অন্য যেকোনো পাওনা ছুটি ভোগ করা যেতে পারে।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি কোনো নারী কর্মচারী দুইয়ের অধিক সন্তানের মা হন, তবে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি এই প্রসূতি ছুটি পাবেন না। সেক্ষেত্রে তাকে তার পাওনা অন্য ছুটি (যেমন- অর্জিত ছুটি) ব্যবহার করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি (Leave on Half-Average Pay)

 




সরকারি কর্মচারীদের অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি

 (Leave on Half-Average Pay)

বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের ছুটির বিষয়টি প্রধানত নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ (Prescribed Leave Rules, 1959) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি (Leave on Half-Average Pay) নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং নিয়মগুলো নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:

১. ছুটি অর্জনের হার

একজন সরকারি কর্মচারী কাজ করার মাধ্যমে এই ছুটি অর্জন করেন:

  • অর্জনের হার: প্রতি ১২ দিন কর্মকালের জন্য ১ দিন অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি পাওনা হিসেবে জমা হয়।

  • জমার সীমা: এই ছুটি জমার কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই; অর্থাৎ চাকরি জীবনে যত খুশি জমা হতে পারে।

২. ছুটি নেওয়ার মেয়াদ

পারিবারিক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এই ছুটি এককালীন বা বিভিন্ন মেয়াদে নেওয়া যায়:

  • ব্যক্তিগত কারণে: এককালীন সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি নেওয়া সম্ভব।

  • স্বাস্থ্যগত কারণে: মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে এককালীন সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত এই ছুটি ভোগ করা যায়।

৩. অর্ধ-গড় বেতনের ছুটিকে গড় বেতনে রূপান্তর

যদি কোনো কর্মচারীর পাওনা তালিকায় 'গড় বেতনে ছুটি' না থাকে, তবে তিনি চাইলে 'অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি'কে গড় বেতনে রূপান্তর করে নিতে পারেন:

  • রূপান্তরের হার: ২ দিন অর্ধ-গড় বেতনের ছুটির বিনিময়ে ১ দিন গড় বেতনে ছুটি পাওয়া যায়।

  • শর্ত: এই রূপান্তর কেবল মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে করা সম্ভব।

  • সীমা: সমগ্র চাকরি জীবনে এভাবে সর্বোচ্চ ১২ মাস (গড় বেতনে) পর্যন্ত রূপান্তর করা যায়।

৪. বেতন ও ভাতা

  • ছুটি শুরুর ঠিক আগে কর্মচারী যে হারে বেতন পাচ্ছিলেন, অর্ধ-গড় বেতনে ছুটির ক্ষেত্রে তিনি সেই মূল বেতনের অর্ধেক (৫০%) পাবেন।

  • তবে নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা পূর্ণ হারেই পাওয়া যায় (যদি না বিশেষ কোনো আদেশ থাকে)।

৫. আবেদন প্রক্রিয়া

অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি নিতে হলে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:

  1. আবেদনপত্র: সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দিষ্ট ফরমে বা সাদা কাগজে উপযুক্ত কারণ দর্শিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।

  2. ছুটির হিসাব যাচাই: আবেদন করার পর দপ্তরের হিসাব শাখা থেকে কর্মচারীর 'ছুটি খতিয়ান' (Leave Account) যাচাই করে দেখা হয় যে তার পর্যাপ্ত ছুটি পাওনা আছে কি না।

  3. অনুমোদন: পাওনা ছুটি সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ছুটি মঞ্জুর করবেন। স্বাস্থ্যগত কারণ হলে অনুমোদিত ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ডের সনদ সংযুক্ত করতে হবে।


মনে রাখবেন: কোনো স্থায়ী কর্মচারী যদি পাওনা ছুটির চেয়ে বেশি দিন ছুটিতে থাকতে চান, তবে বিশেষ বিবেচনায় তাকে 'প্রাপ্যতা বিহীন ছুটি' (Leave Not Due) দেওয়া হতে পারে, যা পরবর্তীতে তার অর্জিত অর্ধ-গড় বেতনের ছুটি থেকে সমন্বয় করা হয়।

সরকারি কর্মচারীদের পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম

 


সরকারি কর্মচারীদের পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম

বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান বিধিমালা (BSSR Part-1) অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের অর্জিত ছুটি (Earned Leave) এবং বিশেষ করে পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়।

পূর্ণ গড় বেতনে অর্জিত ছুটি নেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো:

১. অর্জিত ছুটির হিসাব (অনাগরিক বিভাগ/Civil Department)

সাধারণত একজন সরকারি কর্মচারী প্রতি ১১ দিন কর্মকালের জন্য ১ দিন পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি অর্জন করেন। তবে এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে:

  • একটানা সর্বোচ্চ ৪ মাস পর্যন্ত পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি নেওয়া যায়।

  • যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে (Medical Certificate সাপেক্ষে) ছুটি নেওয়া হয়, তবে এই সীমা আরও বাড়ানো সম্ভব।

২. ছুটির আবেদন পদ্ধতি

পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি নিতে হলে আপনাকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:

  • নির্ধারিত ফরম: বাংলাদেশ ফরম নম্বর-২৩৯৫ (ছুটির আবেদনের ফরম) পূরণ করতে হয়। এতে ছুটির ধরন (পূর্ণ গড় বেতন), সময়সীমা এবং ছুটির কারণ উল্লেখ করতে হয়।

  • ছুটির হিসাব (Leave Accounts): আবেদনের সাথে আপনার সার্ভিস বুক বা ছুটির হিসাবের কপি সংযুক্ত করতে হয়। আপনার কতদিন ছুটি পাওনা আছে, তা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস (এজি অফিস বা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস) থেকে প্রত্যায়ন করিয়ে নিতে হয়।

  • কর্তৃপক্ষের অনুমোদন: যথাযথ কর্তৃপক্ষের (নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা) মাধ্যমে আবেদনটি পেশ করতে হয়। ছুটি মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ আপনার ছুটির প্রয়োজনীয়তা এবং অফিসের কাজের চাপ বিবেচনা করে এটি অনুমোদন করবেন।


৩. আর্থিক সুবিধা

পূর্ণ গড় বেতনে থাকাকালীন আপনি আপনার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের (Basic Pay) সমান হারে বেতন এবং অন্যান্য ভাতা (বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা) প্রাপ্য হবেন। এটি অনেকটা কর্মরত থাকা অবস্থায় বেতন পাওয়ার মতোই।

৪. কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • ছুটি কি পাওনা আছে? আপনি ছুটি নিতে পারবেন তখনই, যখন আপনার ছুটির হিসাবে (Leave Account) ছুটি জমা থাকবে।

  • ছুটি নগদায়ন: অবসরে যাওয়ার সময় (LPR) পাওনা অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুযোগ থাকে, যা সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমান হতে পারে।

  • অর্ধ গড় বেতনে ছুটি: আপনার যদি পূর্ণ গড় বেতনের ছুটি শেষ হয়ে যায়, তবে আপনি অর্ধ গড় বেতনে ছুটির জন্য আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ২ দিন অর্ধ গড় বেতনের ছুটির বদলে ১ দিন পূর্ণ গড় বেতনে ছুটির সুবিধা নেওয়ারও সুযোগ থাকে (চিকিৎসা কারণ বা নির্দিষ্ট শর্তে)।

পরামর্শ: আপনার দপ্তরের 'সংস্থাপন শাখা' বা 'প্রশাসন শাখা' থেকে বর্তমান ছুটির ব্যালেন্স জেনে নিয়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করাই হবে সঠিক পদক্ষেপ। আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ কারণ (যেমন: বিদেশ ভ্রমণ বা অসুস্থতা) থাকে, তবে আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যুক্ত করা জরুরি।

অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave): উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ প্রশিক্ষণের ছু টি কত দিন ও কিভারে নিতে হয়

 


অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave): উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ প্রশিক্ষণের ছু টি কত দিন ও কিভারে নিতে হয়

বাংলাদেশে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave) সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। এটি সাধারণত বিএসআর (BSR Part-1) এর বিধি ১৯৪ হতে ২০৫ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

আপনার অবগতির জন্য এই ছুটির প্রধান বিষয়গুলো নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:

১. কত দিনের জন্য নেওয়া যায়?

অধ্যয়ন ছুটি সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট একবারে বা পুরো চাকুরি জীবনে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে:

  • সর্বোচ্চ সময়: সাধারণত পুরো চাকুরি জীবনে মোট ১২ মাস (১ বছর) অধ্যয়ন ছুটি পাওয়া যায়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ২৪ মাস (২ বছর) পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।

  • একটানা ছুটি: কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া সাধারণত ১২ মাসের বেশি একটানা ছুটি দেওয়া হয় না। তবে উচ্চশিক্ষার কোর্সের ব্যাপ্তি অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এটি নির্ধারিত হয়।

২. ছুটির শর্তাবলি

সবাই চাইলেই এই ছুটি পাবেন না; এর কিছু মৌলিক শর্ত রয়েছে:

  • চাকুরির বয়স: সাধারণত কমপক্ষে ৫ বছর স্থায়ী চাকুরি সম্পন্ন না হলে এই ছুটি মঞ্জুর করা হয় না।

  • জনস্বার্থ: ছুটিটি অবশ্যই জনস্বার্থে হতে হবে, অর্থাৎ আপনার অর্জিত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ যেন সরাসরি আপনার দাপ্তরিক কাজে বা সরকারের উপকারে আসে।

  • অবসর গ্রহণ: চাকুরির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে (সাধারণত অবসরের ৩ বছরের মধ্যে) এই ছুটি পাওয়া কঠিন।

৩. আবেদনের প্রক্রিয়া (ধাপে ধাপে)

আপনি যদি এই ছুটি নিতে চান, তবে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে:

  • ভর্তির প্রমাণপত্র: প্রথমেই আপনি যে প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছেন, সেখান থেকে ভর্তির অফার লেটার বা কোর্সের বিস্তারিত সংগ্রহ করুন।

  • আবেদনপত্র: আপনার বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে (Proper Channel) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে কোর্সের প্রয়োজনীয়তা এবং এটি আপনার কর্মক্ষেত্রে কীভাবে অবদান রাখবে তা উল্লেখ করতে হবে।

  • প্রশাসনিক অনুমোদন: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ আপনার আবেদনটি যাচাই-বাছাই করবে। অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

  • বন্ড বা মুচলেকা: সাধারণত এই ছুটি শেষে দেশে ফিরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চাকুরিতে বহাল থাকার জন্য একটি বন্ড বা অঙ্গীকারনামায় সই করতে হয়।

৪. বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

  • অধ্যয়ন ছুটির সময় সাধারণত অর্ধেক গড় বেতনে (Half Average Pay) ছুটি মঞ্জুর করা হয়।

  • তবে আপনি যদি কোনো স্কলারশিপ বা বৃত্তির অধীনে যান, তবে সেই বৃত্তির শর্তাবলি এবং সরকারি আদেশের (GO) ওপর ভিত্তি করে বেতনের বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে 'প্রেষণ' (Deputation) ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়, যা অধ্যয়ন ছুটির চেয়ে বেশি সুবিধাজনক। কারণ প্রেষণে থাকলে পূর্ণ বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়।

আপনার কি নির্দিষ্ট কোনো বিভাগ বা মন্ত্রণালয় (যেমন: স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা সাধারণ প্রশাসন) সম্পর্কে জানার আগ্রহ আছে? কারণ বিভাগভেদে কিছু ছোটখাটো নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।


সরকারি চাকরিজীবিদের ছুটি কত প্রকার

 


সরকারি চাকরিজীবিদের ছুটি কত প্রকার

বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের ছুটির বিষয়টি মূলত 'নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯' এবং 'সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮' দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত একজন সরকারি কর্মচারী তাঁর চাকরির ধরন ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মোট ১৭ ধরনের ছুটি ভোগ করতে পারেন।

নিচে প্রধান কয়েক প্রকার ছুটির সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

১. নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)

ব্যক্তিগত বা জরুরি প্রয়োজনে বছরে সর্বোচ্চ ২০ দিন এই ছুটি পাওয়া যায়। তবে একনাগাড়ে ১০ দিনের বেশি নেওয়া যায় না। এটি ছুটির হিসাব থেকে বিয়োগ হয় না।

২. অর্জিত ছুটি (Earned Leave)

কাজের সময়ের ওপর ভিত্তি করে এই ছুটি অর্জিত হয়। এটি দুই ধরনের:

  • পূর্ণ গড় বেতনে: প্রতি ১১ দিন কাজের জন্য ১ দিন ছুটি অর্জিত হয়।

  • অর্ধ গড় বেতনে: প্রতি ১২ দিন কাজের জন্য ১ দিন ছুটি অর্জিত হয়।

৩. প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave)

নারী কর্মচারীরা সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুই বার এই ছুটি পেতে পারেন। বর্তমানে এর মেয়াদ প্রতিটি প্রসবে ৬ মাস। এটি ছুটির হিসাব থেকে কাটা হয় না।

৪. শ্রান্তি বিনোদন ছুটি (Rest and Recreation Leave)

প্রতি ৩ বছর অন্তর এই ছুটি পাওয়া যায়। এর মেয়াদ ১৫ দিন এবং ছুটির পাশাপাশি এক মাসের মূল বেতনের সমান ভাতা প্রদান করা হয়।

৫. অসাধারণ ছুটি (Extraordinary Leave)

ছুটি পাওনা না থাকলে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিনা বেতনে এই ছুটি নেওয়া যায়। তবে শর্তসাপেক্ষে এটি ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

৬. অবসর উত্তর ছুটি (PRL - Post Retirement Leave)

অবসরে যাওয়ার আগে পাওনা ছুটি সাপেক্ষে একজন কর্মচারী সর্বোচ্চ ১ বছর এই ছুটি ভোগ করতে পারেন।

অন্যান্য বিশেষ ছুটি:

  • অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave): উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য।

  • হাসপাতাল ছুটি (Hospital Leave): কর্তব্যরত অবস্থায় আহত হলে চিকিৎসার জন্য।

  • সংগনিরোধ ছুটি (Quarantine Leave): পরিবারে কোনো সংক্রামক ব্যাধি দেখা দিলে।

  • বিশেষ অক্ষমতাজনিত ছুটি (Special Disability Leave): দায়িত্ব পালনের সময় গুরুতর আহত হলে।

  • প্রাপ্যতা বিহীন ছুটি (Leave Not Due): ছুটি পাওনা না থাকলেও ভবিষ্যতে অর্জিত হবে—এই শর্তে অগ্রিম ছুটি।


মনে রাখবেন: নৈমিত্তিক ছুটি ছাড়া অন্যান্য প্রায় সব ছুটিই কর্মচারীর 'ছুটি হিসাব' (Leave Account) থেকে বিয়োগ করা হয়। ছুটির ধরন ও শর্তভেদে এই নিয়মগুলো কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

সরকারি চাকুরিজীবীদের মাতৃত্বকালীণ ছুটি কত প্রকার

 


সরকারি চাকুরিজীবীদের মাতৃত্বকালীণ ছুটি কত প্রকার

বাংলাদেশে সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি নারী কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি মূলত এক প্রকারই, যা 'প্রসূতি ছুটি' (Maternity Leave) নামে পরিচিত। তবে এই ছুটির প্রয়োগ এবং সময়সীমার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।বাংলাদেশে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির নিয়মাবলী অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

নিচে মাতৃত্বকালীন ছুটির প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

১. ছুটির মেয়াদ ও ধরন

  • ৬ মাস ছুটি: সরকারি নারী কর্মচারীরা মোট ৬ মাস (১৮০ দিন) মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। ২০১১ সাল থেকে এই নিয়ম কার্যকর রয়েছে (এর আগে এটি ৪ মাস ছিল)।

  • পূর্ণ বেতনে ছুটি: এই পুরো ৬ মাস কর্মচারী তার নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য ভাতা (যাতায়াত ও টিফিন ভাতা ছাড়া) প্রাপ্ত হবেন। এটি তার 'ছুটি হিসাব' (Leave Account) থেকে বিয়োগ করা হয় না।

২. ছুটির সংখ্যা

  • একজন নারী সরকারি কর্মচারী তার পুরো চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ২ বার এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

৩. নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম

যদি কোনো নারী সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় তার সন্তানের বয়স ৬ মাসের কম হয়, তবে তিনি আবেদন করলে সন্তানটির বয়স ৬ মাস পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ছুটি পাবেন।

৪. অন্যান্য ছুটির সাথে সমন্বয়

প্রসূতি ছুটির ধারাবাহিকতায় যদি প্রয়োজন হয়, তবে ডাক্তারী সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে অর্জিত ছুটি (Earned Leave) বা অন্য যেকোনো প্রাপ্য ছুটি যোগ করে ভোগ করা সম্ভব।

১. ছুটির মেয়াদ

একজন নারী সরকারি কর্মচারী তাঁর পুরো চাকুরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করতে পারেন। প্রতিবার ছুটির মেয়াদ হবে ৬ মাস (১৮০ দিন)

২. বেতন ও ভাতাদি

এই ছুটি চলাকালীন সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তাঁর পুরো বেতন এবং অন্যান্য ভাতাদি (যেমন: চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়া ইত্যাদি) পাবেন। এটি একটি 'বেতনসহ' ছুটি এবং এটি তাঁর অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে কাটা হয় না।

৩. আবেদনের সময়

ছুটি গ্রহণের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারীর স্বাধীনতা রয়েছে। সাধারণত:

  • সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের আগে।

  • অথবা, সন্তান প্রসবের তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাস।

  • তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রসবের আগেও এই ছুটি শুরু করা যায়।

৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ছুটির আবেদনের সাথে সাধারণত নিম্নলিখিত নথিপত্র প্রয়োজন হয়:

  • সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের (গাইনোকোলজিস্ট) সনদপত্র।

  • যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন।


গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়:

  • জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি: মাতৃত্বকালীন ছুটির সময়কালকে চাকুরির মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই এটি জ্যেষ্ঠতা (Seniority), বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (Increment) বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।

  • তৃতীয় সন্তান: সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো নারী কর্মচারীর দুইটির বেশি জীবিত সন্তান থাকলে তিনি তৃতীয় সন্তানের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন না। তবে এক্ষেত্রে তিনি চাইলে তাঁর পাওনা 'অর্জিত ছুটি' ব্যবহার করতে পারেন।

  • অন্যান্য ছুটি: মাতৃত্বকালীন ছুটির সাথে প্রয়োজনবোধে চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য যেকোনো পাওনা ছুটি (যেমন: অর্জিত ছুটি বা বিনাবেতন ছুটি) যুক্ত করা যেতে পারে।

সাধারণত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানের কাছে আবেদন করতে হয় এবং দপ্তর সেটি মঞ্জুর করে। আপনার দপ্তরের নির্দিষ্ট 'সার্ভিস রুলস' বা এইচআর বিভাগের সাথে যোগাযোগ করলে আপনি আবেদনপত্রের সঠিক ফরম্যাটটি পেয়ে যাবেন।


সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি সংক্রান্ত বিধান, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮



সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি সংক্রান্ত বিধান,সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি সংক্রান্ত বিধান মূলত 'নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯' এবং 'সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮'-এর আলোকে পরিচালিত হয়। নিচে বিভিন্ন প্রকার ছুটির প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. প্রধান ছুটির ধরনসমূহ

  • নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave): বছরে সাধারণত ২০ দিন। তবে এটি অধিকার নয় বরং সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এককালীন সর্বোচ্চ ১০ দিনের বেশি নেওয়া যায় না।

  • অর্জিত ছুটি (Earned Leave): এটি কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে জমা হয়।

    • গড় বেতনে: প্রতি ১১ দিন কাজের জন্য ১ দিন ছুটি অর্জিত হয়।

    • অর্ধ-গড় বেতনে: প্রতি ১২ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত হয়।

  • মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave): নারী সরকারি কর্মচারীরা সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার ৬ মাস করে বেতনসহ ছুটি পাবেন।

  • অধ্যয়ন ছুটি (Study Leave): উচ্চশিক্ষা বা বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে মঞ্জুর করা হয় (সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাস, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বৃদ্ধিযোগ্য)।

২. বিশেষ ছুটির বিধান

  • প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি: চাকরি জীবনে মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১২ মাস এবং সার্টিফিকেট ছাড়া সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত অর্ধ-গড় বেতনে এই ছুটি নেওয়া যায়।

  • অক্ষমতাজনিত ছুটি: দায়িত্ব পালনকালে কোনো দুর্ঘটনায় আহত হলে এই ছুটি পাওয়া যায়।

  • কোয়ারেন্টাইন ছুটি: ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে এই ছুটি মঞ্জুর করা হয়।

৩. অবসর-উত্তর ছুটি (PRL)

চাকরি শেষে অবসরে যাওয়ার আগে ১ বছর (বা জমা থাকা ছুটি সাপেক্ষে) অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি বা PRL ভোগ করা যায়। বর্তমানে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর (মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৬০ বছর)।


২০২৬ সালের সাম্প্রতিক আপডেট

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষে মন্ত্রিসভার বিশেষ সিদ্ধান্তে সরকারি ছুটি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • ঈদের ছুটি: ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

  • সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল: ঈদের লম্বা ছুটির সমন্বয় করতে ২৩ মে (শনিবার) অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ছুটিতে থাকলে বা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তা 'অসদাচরণ' হিসেবে গণ্য হবে এবং সরকারি চাকরি আইন অনুসারে বিভাগীয় শাস্তির বিধান রয়েছে।

আপনি কি নির্দিষ্ট কোনো ছুটির (যেমন—অর্জিত ছুটি বা লিয়েন) নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন?

সরকারি চাকরি আইন সম্প্রতি ২০২৫ সালে এই আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।

 


সরকারি চাকরি আইন সম্প্রতি ২০২৫ সালে এই আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।

সরকারি চাকরি আইন ২০১৮

বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কর্মচারীগণের নিয়োগ এবং কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণের জন্য ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ কার্যকর রয়েছে। সম্প্রতি ২০২৫ সালে এই আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।

নিচে এই আইনের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:

১. আইনের প্রয়োগ ও পরিধি

এই আইনটি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সকল কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্র এই আইনের আওতাভুক্ত নয়, যেমন:

  • সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট কোনো পদ বা চাকরি।

  • বিচার-কর্ম বিভাগ ও প্রতিরক্ষা-কর্ম বিভাগ।

  • পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

  • জাতীয় সংসদ ও সুপ্রীম কোর্ট।

  • প্রকল্প বা চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী চাকরি।

২. নিয়োগ ও পদোন্নতি

  • মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা: সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নিয়োগের বিধান রয়েছে।

  • যোগ্যতা: পদোন্নতি বা পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সততা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৩. শৃঙ্খলা ও অসদাচরণ (২০২৫ সালের সংশোধন)

২০২৫ সালের সংশোধনীতে কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে কিছু কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে:

  • অসদাচরণের সংজ্ঞা: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা, কর্মে উপস্থিতিতে বাধা দেওয়া, বা বিনা অনুমতিতে সমবেতভাবে কর্মে অনুপস্থিত থাকাকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

  • দণ্ড: গুরুতর অসদাচরণের জন্য তিনটি প্রধান দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে: ১. নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ। ২. চাকরি হতে অপসারণ। ৩. চাকরি হতে বরখাস্ত।

৪. গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান

পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে তাকে গ্রেফতার করতে হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হতো। তবে আদালতের বিভিন্ন রায়ের ফলে এবং আইনি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এই নিয়মের কিছু পরিবর্তন ঘটেছে।

৫. অবসর ও অবসর উত্তর সুবিধা

  • বয়সসীমা: বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সাধারণ অবসরের বয়স ৫৯ বছর (মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৬০ বছর)।

  • পিআরএল: অবসরে যাওয়ার পর একজন কর্মচারী ১ বছর পর্যন্ত ‘অবসর উত্তর ছুটি’ (PRL) ভোগ করতে পারেন।

৬. জনপ্রশাসন সংস্কার

২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনপ্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই আইনে আরও ব্যাপক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হচ্ছে

 


বগুড়া কে কর্পোরেশনে উন্নীত হচ্ছে

বগুড়া বর্তমানে একটি পৌরসভা (Municipality) যা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হচ্ছে, এটি এখনও পর্যন্ত সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়নি। তবে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করার দীর্ঘদিনের একটি দাবি ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।যা এখন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হচ্ছে।

বগুড়া পৌরসভা সম্পর্কে কিছু তথ্য:

বর্তমান বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের কিছু তথ্য:

  • প্রতিষ্ঠা: এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা, যা ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

  • শ্রেণি: এটি একটি 'ক' শ্রেণির (Class A) পৌরসভা।

  • আয়তন: বর্তমানে এর আয়তন প্রায় ৬৯.৫৬ বর্গ কিলোমিটার (সীমানা সম্প্রসারণের পর)।

  • প্রশাসনিক কাঠামো: এটি ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

সিটি করপোরেশন হওয়ার বর্তমান অবস্থা: বগুড়া শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সীমানা নির্ধারণের কাজ বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত গেজেট হয়নি। সিটি করপোরেশন হলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নয়ন বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হয়।